রোহিঙ্গাদের সাথে উদ্দেশ্যমূলক আচরণ কাম্য নয়

191

রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের অপচেষ্ঠা চলছে মগের মুল্লুকে। প্রাণে বাঁচতে জন্মভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন রোহিঙ্গা নারি পুরুষ।বাংলাদেশে শরণার্থী ক্যাম্পে কোনমতে দিন কাটাচ্ছেন এসব মানুষ। তবে ভালো নেই রোহিঙ্গা যুবতীরা। কিছু অতি উৎসাহী মাদরাসা ছাত্র এগিয়ে অাসছেন তাদের বিয়ে করতে। বিষয়টি কতটুকু মানবিক। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি প্রশংসনীয় হতে পারে । কিন্তু তার ভবিষ্যৎ হবে খুবই নির্মম। পঞ্চাশের দশকে বাংলা ভারত ছিল একই । দেশ বিভাগের পর কাঁটাতারে বিভক্ত হয়েছে দুদেশের আত্মীয়তা। নাড়ির টানে প্রিয়জনকে দেখতে সীমানা পার হতে কত নারী পুরুষ ঝুলেছেন কাঁটাতারে।

রোহিঙ্গাদের এ সংকট দূর হতে পারে। সরকার ফিরিয়ে দিবে তাদের। চলে যাবে সবাই। বাদ পড়বেন কেবল এসব নারি । যারা বাঙ্গালি যুবকদের নিকাহ সহানুভুতির শিকার। বাবার বাড়ির কথা মনে পড়তেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কাটিয়ে দিবেন জীবন। তারা কী পারবেন পাসপোর্ট করে বছরে দুএকবার পিত্রালয়ে যেতে। এ হলো স্বাভাবিক চিত্র।

আন্ডারগ্রাউন্ডের চিত্র আরো লোমহর্ষক। রোহিঙ্গা তরুণী পাচার হচ্ছেন মালোয়েশিয়ায়। প্রকাশ্যে কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন বাঙ্গালি দালালরা। দুমুটো ভাতের লোভ দেখিয়ে তাদের আনা হচ্ছে ঢাকার অন্ধকার কুটিরে। গতকাল সিলেট নগরীর লালাবাজার হতে উদ্ধার করা হয়েছে রোহিঙ্গা তরুণী। খবর বাংলাদেশ প্রতিদিনের।

বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙায় আটক হন আরেক রোহিঙ্গা তরুণী। কে বা কারা তাদের এভাবে দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে নিয়ে আসেছেন তার হদিস মিলছে না। পিছনে কাজ করছে বিশাল চক্র।

শুধু তা নয়। রোহিঙ্গাদের ত্রাণের সারিতে প্রথমে থাকেন বাঙালি যুবক। পরিচয় দিচ্ছেন রোহিঙ্গা হিসেবে। জানা যায় কক্সবাজার হতে সকালে টেকনাফে যান কিছু যুবক। বিকেলে বস্তাভর্তি ত্রাণ নিয়ে ফিরেন বাড়ি। সাংবাদিক পরিচয়ে অযথা ঘোরঘোর করছেন রোহিঙ্গা তাবুতে। বিব্রত হচ্ছেন তারা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজর আরো তীক্ষ্ন হওয়া জরুরি। বাঙালিদের আরো নৈতিকার সাথে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন করতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ত্রাণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আরো  সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন।