প্রাকৃতিক ঔষধ লেবু: আফতাব চৌধুরী

169

প্রতিদিন ব্যবহৃত ফল এবং সব্জির মধ্যে লেবু অতি গুনবাহী ও উপকারী ফল। প্রাকৃতিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে লেবুর গুণ অপরিসীম। স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য রক্ষার ক্ষেত্রেও লেবু অতি সহায়ক। লেবুর উৎপাদন ও ব্যবহার সব ঋতুতেই করা যায়। লেবুর প্রধান কাজ শরীরের যাবতীয় বিষবৎ পদার্থ সহজেই শরীর থেকে বের করে দেয়। লেবু ভিটামিন সি এর আধার। ভিটামিন সি এর অভাবে শরীরে স্কার্ভি, হাড়ের রোগ, রক্ত¯্রাব, দাঁতের রোগ, পাইরিয়া, হাঁপানি, কাশি ইত্যাদি রোগ দেখা দেয়। লেবু স্বল্প মাত্রা সেবনে এ সমস্ত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হার্ট ও শিরাধমনীতে শক্তি প্রদান করে। সামান্য গরম পানির মধ্যে লেবুর রস সেবনে বৃদ্ধ বয়সেও হজমশক্তি দুর্বল হয় না। বদহজম দূর করে। ক্ষুধার উদ্রেক হয়। লেবুর মধ্যে বেশী মাত্রায় কার্বোভেজ পাওয়া যায়। শরীরে শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও তার উত্তাপ স্থির রাখতে কার্বোভেজ আবশ্যক। লেবু সেবনের ফলে ক্ষুধা পিপাসা ও নিদ্রা বৃদ্ধি পায়। লেবু পাচন সহায়ক। লেবুতে ‘সাইট্রিক অ্যাসিড’ তথা পটাস জাতীয় খনিজ লবণ পর্যাপ্ত থাকায় জ্বর, অ¤ø, ঢেকুর, বুক জালা, পেট ব্যথা ইত্যাদি কষ্ট দূর করে।

লেবু বিভিন্ন রোগের ঔষুধের কাজ দেয়:-

মাথা ব্যথাঃ- দুধ ছাড়া লেবুর রস দিয়ে তৈরী চা মাথা ব্যথা দূর করে। যারা চা পানে অভ্যস্ত নয় তারা কফির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে মাথা ব্যথার উপকার পাবেন।

মুখের দুর্গন্ধঃ- পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে কুলকুচা করলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।

স্থুলত্বঃ- হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে স্থুলত্ব দূর হয়।

ভগ্ননখঃ- নখ যদি নরম হয়ে ভেঙ্গে যায় তাহলে লেবুর রস মাখতে পারেন। এতে উপকার পাবেন। খাওয়ার পর হাত ধোয়ার জন্য লেবুর রস উৎকৃষ্ট।

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও রক্ত বের হওয়া:- দাঁতের মাড়ি ফুলে বা তা থেকে রক্ত বের হলে প্রতিদিন দু‘বার লেবুর রসহীন ছাল বা খোসা মাড়িতে হাল্কাভাবে মালিশ করে সামান্য গরম পানিতে কুলকুচা করলে উপকার পাওয়া যায়। গলায় মাছের কাটা

বিধলেঃ- খাওয়ার সময় গলায় মাছের কাটা আটকে গেলে কাগজি লেবুর রস গলায় দিলে মাছের কাটা বের হয়ে যায়। তবে এ প্রক্রিয়া বেশী করে করতে হবে।

কাঁশিঃ- মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে এক সঙ্গে পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

জন্ডিসঃ- ২০০ মি.লি পানিতে ২টি লেবুর রস নিংড়ে রাতে ঘুমাবার সময় পান করতে হবে। ৬/৭ দিন এভাবে ব্যবহারে বেশ উপকার পাওয়া যায়। আমাশয়ঃ-পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে আমাশয়ে উপকার হয়।

জ্বরঃ- লবন, গোল মরিচ এবং লেবু মিশিয়ে চুষে খেলে জ্বরের প্রবণতা কমে। জ্বর অবস্থায় রোগীর বার বার পানির পিপাসা পেলে লেবুসহ পানি খেতে দেখা যায়।

শুকনো কাশিঃ- হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও সামান্য গিøসারিন মিশিয়ে গার্গেল করলে শুকনো কাঁশি কমে যায়।

বায়ু বিকারঃ- খাবার পর যাদের পেটে গ্যাস হয় তারা নিয়মিত খাবারের সঙ্গে লেবু খেলে বায়ু বিকার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কৃমিঃ- পেটে কৃমি হলে লেবুর বিচিচূর্ণ করে খাওয়ালে কৃমি নষ্ট হয়ে যায়। বড়দের ১-৩ গ্রাম ও ছোটদের ১ গ্রাম পানির সঙ্গে খাওয়াতে হবে।

যে কোন ব্যথায়ঃ- জারিত লেবুর রস ও সাইট্রিক অ্যাসিড ২ গ্রাম মধুর সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োজনমত খেলে বুকের ব্যথা, পেশী ও বুকের ব্যথার উপশম হয়।

কোমর ব্যথা ও সন্ধিবাতঃ- কোমরে যেকোন কারণে ব্যথা অনুভূত হলে লেবুর রস মালিশ করলে কোমরের ব্যথা ও ফোলা কমে যায়।

রক্তস্বল্পতাঃ- যারা রক্ত স্বল্পতায় ভোগেন তারা লেবু ও টমেটো রসের মিশ্রণে নিয়মিত খেলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়। শরীরে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

মুখের ঘাঃ- লেবুর সরবত প্রতিদিন নিয়মিত সকালে পান করলে পেটের রোগ হয়না এবং মুখের ঘা সেরে যায়।

নাক দিয়ে রক্ত পড়াঃ- লেবুর রস এ রোগে অপূর্ব ঔষুধ। প্রয়োজনে লেবুর রস পিচকারীরর মাধ্যমে নাকে সামান্য পরিমাণে প্রয়োগ করলে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

রক্তক্ষরণঃ- শরীরের কোথাও কেটে গিয়ে যদি প্রবল রক্তপাত হয় তবে ঐ স্থানে লেবুর রস লাগিয়ে দিলে রক্তপাত সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়।

পাতলা পায়খানাঃ- একটি লেবুর রস ৩০০-৪০০ মিলি লিটার পানিতে মিশিয়ে দিনে ৫/৬ বার সেবন করলে ২/১ দিনের মধ্যে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়।

দাদঃ- শরীরের কোথাও দাদ হলে সে স্থানে লেবুর রস প্রয়োগ করলে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি পাওয়া যায়। তা দিনে ২/৩ বার প্রয়োগ দরকার। যতদূর সম্ভব অন্য ফলের সঙ্গে লেবুর রস পান করা উচিৎ। অন্য ফলের রস না খেলে পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া উচিৎ। পানি ছাড়া লেবুর রস গলা ও বুকে জ্বালার উদ্রেক করে। লেবুর রস ব্যবহারের সময় একটি বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন যেকোন অবস্থাতেই যেন লেবুর বিচি পেটে চলে না যায়। এতে অন্ত্রের গোলযোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।