স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস নিয়ে কবি এমএ ফাত্তাহের কবিতা

158

জকিগঞ্জ ভিউ:

বিজয় মানে
এম এ ফাত্তাহ

বিজয় মানে বায়ান্নতে ভাষার অধিকার,
রক্তমাখা পীচঢালা পথ রফিক ও জব্বার।
বিজয় মানে ঊনসত্তর আন্দোলনের ঢেউ,
লক্ষ কোটি মুষ্টিহাত আঁধার পেরুবোই।
বিজয় মানে সত্তরেতে ভোটের অধিকার,
ব্যালট যুদ্ধে কাবু হয়ে পাক মাথা আন্ধার।
বিজয় মানে সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধুর হাঁক,
লক্ষ মানব সমূদ্রেতে স্বাধীনতার ডাক।

বিজয় মানে কালোরাতে মর্টার মেশিনগান,
ঘুমের ঘোরে কেড়ে নেয়া হাজার শত প্রাণ।
বিজয় মানে হতভম্ব আকুল মানব হিয়া,
মুক্তিযুদ্ধের আহবানে ঘোষক শহীদ জিয়া।
বিজয় মানে লক্ষ জীবন রক্তগঙ্গা ধারা,
বীরাঙ্গনা সব হারিয়ে নয়তো দিশাহারা।

বিজয় মানে মুক্তি সেনা কসম স্বাধীনতা,
বুদ্ধি ঢেলে রণভূমে দেখিয়ে যায় ক্ষমতা।
বিজয় মানে জলে স্থলে মুক্তিসেনার দল,
বিশ্বসেরা পাকি সেনা মার খেয়ে দূর্বল।
বিজয় মানে ভাই হারিয়ে স্বাধীনতার সুখ,
স্বামী সোহাগ প্রেম হারিয়ে তবু হাসি মুখ।

বিজয় মানে তাহাই কি না নারী নির্যাতন!
শত শত তনু তারিন প্রাণের বিসর্জন?
বিজয় মানে ভয় কাতুরে সত্য বলা ভুল!
হৃদয়জ্বালা হৃদে পোষে নিথর চলাচল?
বিজয় মানে তাহাই কিনা পেশি শক্তি যার!
আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ নি:স্ব হলেও তার?

বিজয় দিনে তোমায় স্মরি মুজিবুর রহমান,
শ্রদ্ধায় আরো স্মরণ করি সকল শহীদান।
দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে এক কাতারে মিলি,
বাংলা আমার সকলেরই মিলেমিশে চলি।
************************************************
জকিগঞ্জ, সিলেট
১৩.১২.২০১৬ খ্রি:
সকাল ০৮:৩০ ঘ:

তোমারই ডাকে হে বঙ্গবন্ধু
এমএ ফাত্তাহ

বজ্রনিনাদ কন্ঠে যদি ডাক দিতে না সেদিন
ঘোষণা দিতে না যদি স্বাধীনতার ডাক,
পরাধীনতার পরাকাষ্ঠার জিঞ্জির ভাংতে পারতামনা হয়তো আজো,
পারতামনা শির উচু করে দাঁড়াতে পৃথিবীর সোনালি প্রান্তরে
আপামর জনতা যেখানে প্রাণখোলে মনের ভাব প্রকাশ করে, স্বর্গের হাসি হাসে হৃদয় উজাড় করে,
ভালবাসে তার ভাললাগার প্রিয় মানুষকে
স্বপন দেখে ঘোর নিশিতে মাতাল লগ্নে তার জন্যে যে অপেক্ষার প্রহর গুনে বসে থাকে তাদের মতো করে।

হে মহান সিপাহ সালার।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাল সালাম তোমার প্রতি।
তোমারই ডাকে–
শুধু তোমারই ডাকে অবহেলিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, অসহায় আর পথহারা বনি আদম বাঁচার তাগিদে তাদের মনোপটে স্বপ্নের রোদেলা প্রভাত অাঁকে।

লাল সালাম তোমায় হাজারো–
ভূখা-নাঙ্গা-নিরুপায়দের হে পরম বন্ধু।
তোমারই দক্ষ হাতের ছোঁয়া আর জ্বালাময়ী
কথার মাধুরিতে আমরা লড়াকু বীর বাঙালি
আজ স্বাধিন বাঙালি জাতি
জগতের বিস্ময় এক আশা জাগানিয়া জাতি।

তিমির রাত্তিরে হানাদার পোষা কুত্তারা যেদিন ঘুমন্ত আদমকে বুলেট আর গোলা বারুদে বুকের পাজর ঝাঝরা করে
বুঝে উঠতে পারেনি মানুষ কি তার অপরাধ, কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিল গোটা জাতি,
সেদিন তোমার জলদ বজ্র বাণী আমাদের পথ দেখায়, বাঁচার স্বপ্ন দেখায়
ঘুরে দাঁড়াবার সাহস বুকে দানা বেঁধে উঠে।

তাইতো যোগ্য সহচররা তোমার,
মৃতপ্রায় জনতাকে জড়ো করতে, বজ্রনিনাদ কন্ঠে তোমার কথাগুলি ইথারে জানিয়ে দেয় বিমূঢ় ভ্যাবাচেকা জাতির উদ্দ্যেশ্য,
গর্জে উঠে মানুষ যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে
কারো পানে ফিরে তাকানোর প্রয়োজন মনে করেনি,
দেশটাকে হানাদার মুক্ত করতে হবে এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয় তারা,
এক সাগর রক্তের বন্যায় সব ভেসে যাবে
তীরের সন্ধান নিশ্চিত পাওয়া যাবে এ বিশ্বাস
মনেতে লালন করেই তারা বন্ধুর পথে পা বাড়ায়।
তা কেবল সম্ভব হয় তোমার নির্লোভ নেতৃত্ব,
মানুষের প্রতি দরদি মন আর ছোট্ট এই ভূখন্ডকে নিয়ে এক আকাশ স্বপ্ন দেখিয়ে
তাদের জাগিয়ে তোলার বাসনা থাকায়।

হে মহান বীর!
পিছিয়ে পড়া বাঙ্গালির কান্ডারি মুজিব–
বিশ্বের দরবারে বাংলাকে নিয়ে মাথা উচু করে দাঁড়াবার স্বপ্নদ্রষ্টা পুরুষ–
শুধু তোমারই ডাকে আমরা জ্ঞানার্জনের হাতিয়ার শক্তিশালি কলম
মায়াবি প্রেমিকার প্রেম জড়ানো কোমল হাত,
বাসর রাতের ফুল শয্যার স্বর্গীয় সুখ, আকুল করা প্রিয়ার মায়াবি পরশ অতি কষ্টে–
আহা! অতি কষ্টে ছুঁড়ে ফেলে বিপ্লবের অস্ত্র হাতে তুলে নেই;
বাবা-মা’র নিখাদ শ্রেষ্ঠ ভালবাসা, ভাই-বোনের আদর-সোহাগ
প্রিয়ার দরদি হাতের কোমল ছোঁয়া আর হৃদয় আনচান করা ভালবাসাকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশ মাতৃকার ইজ্জত বাঁচাতে অস্ত্র হাতে যুদ্ধের দামামা বাজাই।
নারির শ্রেষ্ঠ সম্পদ ইজ্জত খোয়ানোর যন্ত্রণায় কাতর হয়ে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে
যে সকল নারি পথহারা হবার মানসে অকালে জীবন আত্মাহুতি দিতে প্রবল প্রতিশোধে দূর্বার শপথ নিয়েছিল,
দেশ মাতৃকার ইজ্জত রক্ষায়
অবশেষে অস্ত্র হাতে হানাদার খতমে আত্মনিবেদিত হয়।

মহান!
হে মহান!!
শুধু তোমারই ডাকে–
তোমারই অমিয় বাণীতে আকৃষ্ঠ হয়ে,
তোমারই বাতলানো পথ আঁকড়ে ধরতে গিয়ে,
দীঘল সাড়ে নয় মাস আমরা কষ্টের গঙা সাতরাই।

মহান হে দরদি!
কোটি বাঙ্গালির হৃদয়ের স্পন্দন হে বঙ্গবন্ধু!
তোমায় ভুলিনি, ভুলবোনা কোনদিন।
তোমার আগুন ঝরা অমীয় বচন আর লালিত স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে দেশ,
বিস্ময় জাগাবে বিশ্বে তোমারই গড়া ব্যঘ্র সাহসী জনতা।
বিস্ময় জাগাবে জগতে বিস্ময় এ লড়াকু জাতি,
পথ হারাবে না বাংলাদেশ।
————————————————————–
(সফেদ পায়রার দৃষ্টিনন্দন চরাচর:পৃষ্ঠা-১২,১৩)
——————————–
ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট
০৭ ই মার্চ ২০১৬ খ্রি.
দুপুর :- ১২:০০ ঘ: