ছেলেধরা সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দিন। গণপিটুনি ফৌজদারি অপরাধ

37

সারাদেশে গুজব ছড়িয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নগরবাসীর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা (গণমাধ্যম) জানান, গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে ছেলেধরা সন্দেহে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে নগরবাসীকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি ছেলেধরা হিসেবে কাউকে সন্দেহ হয় তাহলে গণপিটুনি না দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিন।’

পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে- কিছু মানুষ গুজবকে কাজে লাগিয়ে যাদের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর জন্য তাদের দায়ী করে ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এটি পুরোপুরি মিথ্যা ও গুজব। একটি মহল এ উন্নয়ন ব্যাহত করার জন্য এ ধরনের গুজব রটিয়ে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে যা গুরুতর অপরাধ। অনেকে না বুঝেই এটি ফেসবুকে শেয়ার করে অপরাধের অংশীদার হচ্ছেন। এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল এবং গণপিটুনি দিয়ে কাউকে হত্যা করা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। যারা এ বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর গুজব ছাড়াচ্ছেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সিলেট মহানগর পুলিশ তৎপর।

অপরদিকে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন সব থানাকে সতর্ক থাকার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুজবে কান না দেওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো জন্য থানার ওসিদের বলেছি।