অধ্যক্ষকে হয়রানি: বিশ্বনাথে এলাহাবাদ মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

34
বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়নের তেলিকোনা গ্রামে এলাহাবাদ আলিম মাদরাসায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোন সময় বড় ধরণের অঘটন ঘটার আশংকা রয়েছে। রোববার সকালে মাদরাসায় শিক্ষার্থীরা ৫দফা দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে একটি মহল মাদরাসাটিকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের জন্য বিশৃঙখলা সৃষ্টি করছে। তারা লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তার দাবি জানায়৷ শিক্ষার্থীদের ৫দফা দাবি গুলো হল- ১. মাদরাসায় বহিরাগতদের দ্বারা বিশৃঙখলা বন্ধ ২. মাদরাসার অধ্যক্ষকে অপমান ও অপপ্রচারের জন্য দায়ীদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া ৩. গভর্নিং বডির সভায় বহিরাগত আসা বন্ধ করা ৪. খোলামেলা পরিবেশে উপযুক্ত জায়গায় মাদরাসার ভবন নির্মাণ করা ৫. শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জান মালের নিরাপত্তা প্রদান করা।
অধ্যক্ষের অবমাননা শিক্ষার্থীরা সইবেনা স্লোগান দিয়ে মিছিলটি রাজাগঞ্জ বাজার সহ এলাকা প্রদক্ষিণ করে মাদরাসা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মাদরাসার ছাত্র মাছুম হোসাইন, জাহির আহমদ, মুজাক্কির আহমদ, আব্দুল গফফার, জুয়েল আহমদ, মোহাম্মদ সাইদী, হাফিজ হোসাইন, ফাহিম আহদ প্রমুখ। এদিকে একই সময়ে প্রতিপক্ষের একটু গ্রুপ মাদরাসার পার্শ্ববর্তী নুরুর রহমানের বাড়িতে ইটপাটকেল ও চেয়ার ভেঙ্গে রাখে। ঘটনার খবর পেয়ে এসআই অলক দাস ও তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়৷ এক পর্যায়ে এসআই অলক দাস মাদরাসার অধ্যক্ষকে প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় অশালীন আচরণ ও দোষারোপ করতে থাকেন। কিন্তু অধ্যক্ষ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় সৃষ্ট পরিবেশের জন্য প্রতিবাদ মিছিল করেছে৷ ভাঙ্গা ইট পাটকেল ও চেয়ার সাজিয়ে অধ্যক্ষের বিপক্ষে থানায় মামলা করার জামাত নিয়ন্ত্রিত অপরপক্ষ চেষ্টা করেছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতে সে কৌশল ভেস্তে যায়।
উল্লেখ্য মাদরাসার একটি ভবন নির্মাণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী পরিবারের ছত্রছায়ায় রাতের বেলায় মাদরাসাটিকে জামাত শিবিরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। এবং এতে বেদেশ থেকেও অর্থের যোগান দেওয়া হয়। বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন এলাকাবাসী শিক্ষামন্ত্রী, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল দফতরে অভিযোগ দায়ের করলে একটি গোষ্ঠী মাদরাসার অধ্যক্ষকে দায়ী করে নানাভাবে হয়রানি শুরু করে৷ অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইন আল্লামা ফুলতলী (রঃ) এর অনুসারী এবং বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদারিসিনের সদস্য৷ জানা যায় মাদরাসায় বর্তমানে ১১শতক জায়গা রয়েছে। এই ভূমিতে সরকারি বিধান মতে ভবন হওয়ার সুযোগ নাই। তাই অধ্যক্ষ সরকারি বিধান মতে ৮০শতক ভূমিতে মাদরাসা স্থানান্তরের প্রস্তাব করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান প্রতিপক্ষের লোকজন৷ তার বিরুদ্ধেও নানা দফতরে সাজানো অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা স্থানীয় জামাত শিবিরদের কৌশলে সহায়তা করছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নিরপেক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মাদরাসাটিকে রক্ষা করা এবং দূষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
Maruf Husain