আত্মহত্যা ও তরুন সমাজ- রেদ্বওয়ান মাহমুদ

17

জকিগঞ্জ ভিউঃ  কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষই আত্মহত্যা। প্রতিটি আত্মহত্যার পেছনের গল্প থাকে ভিন্ন, একেকরকম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১০ শতাংশ আত্মহত্যার ক্ষেত্রে কোনো রকমের মানসিক সমস্যা দায়ী থাকেনা। সাধারণ এবং সুস্থ মানুষের থেকে আত্মহত্যার রোগীদের মস্তিষ্কের গঠন এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক পদার্থ এগুলোর মধ্যেও পার্থক্য পাওয়া যায়। তবে বাকি নব্বইয়ের সিংহভাগই হতাশার চরম পর্যায় থেকে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। দিন-দিন এই ব্যাধিটি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকার সমীকরণে এগিয়ে তরুনরাই। যা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। আত্মহত্যা মানুষ কেন করে, কারা করে তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে। গবেষকদের মতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সের মধ্যে আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

তরুনদের আত্মহত্যার পেছনের কারনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া, পারিবারিক কলহ এবং প্রেমে ব্যর্থ হওয়া। সম্প্রতি আত্মহত্যার পেছনের কারন খুঁজতে গিয়ে এই তিনটি বিষয়ই অধিকহারে সামনে আসে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কোথাও আত্মহত্যাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয়না। তথাপি আত্মহননের এমন ঘৃণ্য পন্থা অবলম্বনের চিন্তাটা কতটা নৃশংস তা স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই বুঝা সম্ভব। আত্মহত্যা থেকে অনুজদের দূরে সরানোর ক্ষেত্রে কোন পরিবারেরই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, লাগামহীন এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্তরাই এই পথ বেছে নিচ্ছে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কর্মকান্ড সংগঠিত হলেই জীবনকে শেষ করে দিচ্ছে স্বেচ্ছায়। কারন, তারা লাগামহীনভাবেই বেড়ে উঠেছে।
প্রতিটি সন্তানের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণের সূতিকাগার হলো নিজ পরিবার। শুরু থেকে যেভাবে গড়ে তুলা হয়, সন্তান ঠিক সেভাবেই গড়ে উঠে। অতএব লাগাম টেনে ধরার প্রথম দায়িত্ব তার পরিবারের। জীবনের বন্ধুর পথ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে কখনো সুখ, কখনো কষ্ট, কখনো প্রাপ্তি, কখনো হতাশা সবকিছুকেই একান্ত নিজের বলে মানিয়ে নিতে হয়, এই চিরন্তন সত্যগুলো জানান দেয়ার দায়িত্ব পরিবারেরই।
জন্মের পর থেকে তিল তিল করে গড়ে তুলা হয় একটা সন্তানকে, এক-পা দু পা করে হাঁটা-চলা শেখা, আমতা-আমতা করে কথা বলার শুরু অতপর জীবনের কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহননের মত ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত নেয়াটা যে আসলেই ক্যান্সার- ডায়াবেটিসের সমতুল্য কিংবা তার চেয়ে ভয়াবহ ব্যাধি, সেটি কেন আমরা আজো চিহ্নিত করতে পারিনা, প্রশ্ন থেকে যায়!
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে আত্মহত্যাকে মানসিক অসুস্থতাসংক্রান্ত বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে এ ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়াও সম্ভবপর। আর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিজের প্রতি ভালোবাসা আত্মহত্যা থেকে বাঁচার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে সবাইকে একযোগে কাজ করা উচিত। বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে অভিভাবকদেরকে যেমন সন্তানের প্রকৃত বন্ধু হতে হবে, তেমনি সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন সেমিনার-ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রকৃত সত্যকে চমকপ্রদভাবে তুলে ধরে তরুনদের মনন-মগজে আনতে হবে সহিষ্ণুতা।