কষ্টের দিন- মোঃ কামরুল ইসলাম বাবু 

105

 

জকিগঞ্জ ভিউঃ  ১৫ ই মে ২০১৮। আমাদের জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন। যে দিনটির কথা মনে হলেই চোখের কোণে আসে জল।কখনও একা একা কেঁদেছি ঘন্টার পর ঘন্টা।এখনও ডান পায়ের উপর দীর্ঘক্ষণ ভর করতে পারিনা।

কিন্তু সেদিন আমার দোষ কি ছিলো সাইফুর??
আমি তো আমার প্রাণপ্রিয় তালামীয কর্মীদের একটি টাকার বিনিময়েও ছাত্রাবাসে তুলিনি।বৈধভাবে আবেদন করিয়ে টাকা জমা করেই বরং তুলেছিলাম।অথচ তুমি আমাদের কাছ থেকে চাঁদা পাওনি বলে আমাকে এভাবেই মারবে?
হ্যাঁ,তখন তোমার শক্তি ছিলো। তুমি বলেছিলে আমার মত এক দুইটা ছেলের লাশ ফেলে দিলে তোমার কিচ্ছুই হবে না।তোমার……আছেন।
কিন্তু সেদিন আমিও চাইলে হাত তুলতে পারতাম।তোমার ১০ টা আঘাতের বদলে দুইটা আঘাত ফিরাতে পারতাম।তোমার শরীরের শক্তি ছিলো না,ছিলো ‘ক্ষমতার পাওয়ার’।
সেদিন গা ছেড়েদিয়েছিলাম।তার মানে এই নয় যে আমার কান্নার আওয়াজ শুধু ছাত্রাবাসের মানুষ শুনেছে।
আমার বিশ্বাস ছিলো আমার এই আওয়াজ তো তোমার ক্ষমতার চেয়ে অসীম ক্ষমতার অধিকারী মহান মালিক যে দেখছেন।এই চিৎকার যে কামলিওয়ালা দেখছেন।এই চিৎকারের আওয়াজ যে আমার রাহবার আল্লামা ফুলতলী(রহ) এর কানেও পৌঁছাচ্ছে।সেদিন ফিরাই নি কারণ ভেবেছিলাম আমার কর্মীদের কথা।আমি একজন আঘাত পেয়ে যদি আমার কর্মীরা রেহাই পায় তবে যে আমার রাহবার,আমার নবীজী, আমার মাওলা আমার উপর খুশি হবেন।
এরপরে একটি রাতও আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি।মনে হতো এই বুঝি তুমি আঘাত করছো।
৪ দিন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছিলাম।১ম রোজার সেহরিটাও যে হাসপাতালের বেডেই খেয়ে বাড়িতে ফিরেছিলাম।সেদিন রাতে যে আমার রাহবার আমায় শান্তনা দিয়েছিলেন। আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দিতে বলেছিলেন।

হ্যাঁ,আল্লাহর বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম।আজ ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তুমি বড়ই অসহায়।
তোমার মা-বাবাও তোমার বিচার চায়।দেশের মানুষ তোমার উপর থু থু দিচ্ছে।একজন আইনজীবীও দাঁড়ায় নি তোমার পক্ষে।
এটাই আল্লাহর বিচার।এটাই আমার নবীজির দৃষ্টি। এটাই ওলী-আল্লাহর কারামত।

আমার কর্মীদের উদ্যেশ্যে বলবো,তোমাদের নিরাপদ-ভালো থাকা চাওয়াটা ছিলো আমার সেদিনের রক্তের বদলা।
কিন্তু,আল্লাহর নবীর মহব্বত কিংবা আল্লামা ফুলতলী(র) এর পদাঙ্ক অনুসরণ থেকে বিচ্যুত হও কিংবা গাফেলতি করো,তবে মনে রেখো-ধ্বংস হয়ে যাবে।