‘আমৃত্যু নেলসন ম্যান্ডেলা’ এক মহামানবের জীবনরেখা- রেদ্বওয়ান মাহমুদ

30

জকিগঞ্জ ভিউঃ বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক নিয়ে রচিত অনবদ্য জীবনীগ্রন্থ ‘আমৃত্যু নেলসন ম্যান্ডেলা’। গ্রন্থটিতে কেপটাউনের কুনুতে বেড়ে উঠা দুরন্ত ‘রোলিহলাহলা’ থেকে বিশ্ববিখ্যাত নেলসন ম্যান্ডেলা হয়ে উঠার পেছনের গল্পগুলো অত্যন্ত সাবলীল শব্দের গাঁথুনিতে চমকপ্রদভাবে পাঠক সম্মুখে তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক ইয়াহইয়া ফজল।

জীবনের মূল্যবান ২৭টি বছর কারাপ্রকোষ্ঠে কাটানো ম্যান্ডেলা পেরিয়েছেন জীবনের নানা চড়াই উৎরাই। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক হয়ে পুরো জীবনকেই উৎসর্গ করেছেন এ মনীষী। কারাবাসের নৃশংস দিনগুলোতে সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে লিখেছেন ৬০০পৃষ্ঠার ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’। যেটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে হয়ে উঠেছিলো বেস্ট সেলার। জীবনের সব সুখ-সমৃদ্ধি আর আয়েশের দিকে মনোনিবেশ না করে তিনি হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। সবার জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জীবনভর লড়ে গেছেন, কক্ষনো থামেননি। হেয় করার জন্য রোবেন দ্বীপের কারাগারে দেয়া কয়েদি নম্বর ৪৬৬৬৪কে তিনি এইডসবিরোধী ক্যাম্পেইনে রুপায়িত করে দিয়েছেন উচিত জবাব। অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সম্মুখভাগে থেকে লড়ে যাওয়া ম্যান্ডেলা শান্তিতে পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার। পেয়েছেন বিশ্বের কোটি মানুষের নিখাঁদ ভালোবাসা।জীবনে উত্থান-পতনের একান্ত স্বাক্ষী হয়েছেন কাছে থেকে, তবে পিছু হটেননি। অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংগ্রাম করে গেছেন।

অধিকার আদায়ে বিপ্লবী ম্যান্ডেলা প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে বিরত থেকে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়৷ কারাবাসে থেকে প্রিয়তমা স্ত্রীসহ সন্তানদের প্রতি লিখেছেন আবেগঘন চিঠি, তবে কোনকিছুই তাঁকে বিন্দুমাত্র মনোবলহরণ করতে পারেনি। ম্যান্ডেলার সামগ্রীক বিষয়ের সমাহার নিয়ে ৪৭টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত গ্রন্থটিতে উঠে এসেছে এমনই সব গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এটি পাঠ শেষে ম্যান্ডেলা সম্পর্কে জ্ঞানের ঝুলি যেমন সমৃদ্ধ হবে তেমনি তাঁর সংগ্রামী জীবন থেকে নেয়া যাবে শিক্ষা। ‘আমৃত্যু নেলসন ম্যান্ডেলা’ ২০১৪ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ করে চৈতন্য প্রকাশন। সুভাষ চন্দ্র নাথের আঁকা প্রচ্ছদ ও লেখকের ভাগিনি তাসফিয়া খান ইলিনকে উৎসর্গীত বইটির পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হয় ২০১৯ সালের নভেম্বরে। অল্প সময়েই পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বইটি।