তালামীযে ইসলামিয়ার মীলাদুন্নবী (সা.) স্মারক ‘সুবহে সাদিক’র প্রকাশনা

16

জকিগঞ্জ ভিউঃ ‘সুবহে সাদিক’ যুগ যুগ ধরে রাসূল (সা.) এর জীবনের বিভিন্ন দিক মানুষের মধ্যে তুলে ধরছে
—–মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী

বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, ‘সুবহে সাদিক’ যুগ যুগ ধরে রাসূল (সা.) এর জীবনের বিভিন্ন দিক মানুষের মধ্যে তুলে ধরছে। বাংলাদেশে অসত্য, বস্তুনিষ্ঠহীন বইয়ের ছড়াছড়ি যেখানে প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ, সেখানে সুবহে সাদিক পাঠকের মধ্যে রাসূল (সা.) এর জীবন ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন দিক তথ্য সমৃদ্ধভাবে উপস্থাপন করছে। তিনি বলেন, আজ দেশে নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে আইনের অপব্যবহার ও দুর্নীতি বাড়ছে, বিনা অপরাধে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই এ থেকে উত্তরণে তালামীয কর্মীদের ‘সুবহে সাদিক’ হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে। তিনি আরো বলেন, মানুষ আজ তার প্রকৃত আদর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বিশ্বনবী (সা.) হলেন মানুষের জন্য প্রকৃত আদর্শ। যাকে অনুসরণ করলে দুনিয়া ও আখিরাত পাওয়া যায়। আর তালামীযে ইসলামিয়া নবী (সা.) এর আদর্শের উপর অবিচল সংগঠন। তিনি বলেন, সংগঠনে বেশি সংখ্যক মানুষ মূখ্য নয়, কম সংখ্যক কর্মী হলেও তারা হবেন যোগ্যতাসম্পন্ন, রাসূল প্রেমিক ও উসওয়ায়ে হাসানার পূর্ণাঙ্গ অনুসারী। তিনি ইমাম আবু হানিফা, ইমাম বুখারী ও ইমাম আসকালানীর মতো ইমামগণের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, এরা সবাই যে খুব দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন তা কিন্তু নয়। তারা তাদের জীবনের সুবহে সাদিককে কাজে লাগিয়েছেন। তাই আমাদের সকলেরও উচিত জীবনের প্রতিটি সময়কে আল্লাহর রাহে কাজে লাগিয়ে নিজেকে প্রকৃত মুমিন মুসলমান হিসেবে গড়ে তোলা।
তিনি আরো বলেন, আমরা রাজনৈতিক স্বার্থে কারো বিরোধিতায় বিশ্বাসী নয়। কিন্তু নবী (সা.) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য কারো পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করি না। তবে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে বিশ্বাসী। এমন পরিস্থিতিতে তালামীয কর্মীদেরকে আবেগ থেকে নয় বিবেক ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আজ ১৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া আয়োজিত পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) স্মারক ‘সুবহে সাদিক’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি আখতার হোসাইন জাহেদ-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূনুর রহমান লেখনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা একেএম মনোওর আলী, বিশিষ্ট কবি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, দৈনিক সিলেটের ডাক এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, আনজুমানে আল ইসলাহ’র কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মাওলানা আবু ছালেহ মো. কুতবুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর মো. নুমান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা আজির উদ্দিন পাশা, অফিস সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, তালামীযে ইসলামিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা বেলাল আহমদ, মাওলানা ফখরুল ইসলাম ও মাওলানা রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজতবা হাসান চৌধুরী নুমান এর শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দুলাল আহমদ, মুহাম্মদ মুহিবুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ উসমান গণি, অফিস সম্পাদক আব্দুল মুহিত রাসেল, সহ-অফিস সম্পাদক তৌরিছ আলী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সুলতান আহমদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ফরহাদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, তালামীযে ইসলামিয়ার শাবিপ্রবি সভাপতি মনজুরুল করিম মহসিন, সিলেট মহানগর সভাপতি জাহেদুর রহমান, সিলেট পশ্চিম জেলা সভাপতি শেখ আলী হায়দার, মৌলভীবাজার জেলা আহবায়ক আব্দুল জলিল, পূর্ব জেলা সভাপতি কামাল উদ্দিন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় জোন সিলেট শাখার সভাপতি মাসরুর হাসান জাফরী, সিলেট মহানগরী সাধারণ সম্পাদক এস এম মনোয়ার হোসেন, সিলেট পূর্ব জেলা সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মুহাম্মদ বাবু, পশ্চিম জেলা সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ, সুনামগনজ জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি সোহাগ ও হবিগনজ জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।