২য় বর্ষে সেভ সিলেটের পদার্পণ

7

২৬শে মার্চ ২০২০! ঠিক এক বছর আগের আজকের রাতের তিনটা ত্রিশ মিনিটে জন্ম হয়েছিলো একটি পরিবারের। যার নাম “সেভ সিলেট”। তখনকার অবস্থা অনুযায়ী যেহেতু করোনা মহামারীতে আমরা মারা যাবো তাই জীবনের শেষ ভালো কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়েই জন্ম হয় Save Sylhet পরিবারের।

সেভ সিলেট পরিবারের প্রথম মিশন ছিলো এক লক্ষ অসহায় মানুষকে খাবার পৌছে দেয়া। যাতে মহামারীতে তাদেরকে কমপক্ষে খাদ্যের অভাবে মারা যেতে না হয়। যেহেতু আমরা এখনো ধনী দেশ হতে পারিনি তাই সরকার একা সবকিছু সামাল দিতে পারবেন না এটা আমরা সবাই-ই জানি। তাই আমাদের প্রয়াস ছিলো সত্যিকারের অসহায়দের খুঁজে বের করে তাদেরকে সহায়তা করা। যার জন্য সিলেট বিভাগের প্রতিটি উপজেলায়, ইউনিয়নে, ওয়ার্ডে আলাদা আলাদা টিম সেটাপের কাজ শুরু হয়। একসাথে সিলেট বিভাগের প্রতিটি কোণে সহায়তা পৌছে দেয়ার একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে যায় কিছুদিনের মধ্যেই। এখন চ্যালেঞ্জ হলো এতো বিশাল ফান্ডিং নিয়ে। কারণ এতো মানুষকে সাপোর্ট দিতে সকলের আন্তরিকতার প্রয়োজন।

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে সিলেটের প্রবাসীরা আছেন। সবাই তখন এগিয়ে আসেন। পুরো বিশ্ব থেকে মোট ৩৬৯৪জন মানুষ এই মিশনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। আমাদেরকে শুধুমাত্র একটা সিস্টেম তৈরি করতে হয়েছে যাতে তাদের দানের টাকাগুলো তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রজেক্টে ব্যয় করা হয়। তারা নিজেরা যখন দেখতে পান যে তাদের টাকাগুলো সঠিক কাজে তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী ব্যয় হয়েছে এবং প্রকৃত অসহায়রা পেয়েছেন তখন আর আমাদেরকে ফান্ডিং নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি।

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দীর্ঘ ১৫০দিনের ৫৩৯৪ জন ভলান্টিয়ারের রাত দিনের পরিশ্রমের বিনিময়ে মোট ১,১৭,৮৪৬জন মানুষকে খাবার পৌছে দিতে সক্ষম হই। যার তিন মাসের খাবারের প্রয়োজন ছিলো তাকে তিন মাসের খাবার প্যাক দেয়া হয়। যার এক মাসের খাবার প্যাকের প্রয়োজন ছিলো তাদেরকে এক মাসের খাবার প্যাক দেয়া হয়। এই ফান্ডে প্রতিটি পয়সা পর্যন্ত খরচ করার পর যখন আমরা সফলভাবে ২৮ আগষ্ট সবকিছু সম্পন্ন করি। ততোদিনে আমরা এক লক্ষের বেশি মানুষের পরিবার হয়ে উঠি। এতো বিশাল পরিবার। যেখানে একজন আরেকজনকে প্রান দিয়ে ভালোবাসেন।

আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিলো শুধু এই মিশন কমপ্লিট করেই সমাপ্তি ঘোষণা করবো। কিন্তু মানুষের পাশে গিয়ে যখন মানুষের কষ্টকে কাছে থেকে যখন দেখেছি তখন আমাদের জীবন নিয়ে চিন্তাই বদলে যায়। আমরা একটা কষ্ট ভিতরে ভিতরে ফিল করা শুরু করি যে এসব মানুষের জন্য স্থায়ী কোনো কিছু করতে হবে যাতে তাদের জীবন বদলে যায়। তখন নবীজী (সাঃ) আর কাঠুরির গল্প মনে পরে গেলো। যার মূল সারমর্ম হচ্ছে “কাউকে মাছ না দিয়ে মাছ ধরা শিখিয়ে দেয়া উত্তম”।

আমরা তখন চিন্তায় পড়ে যাই যে কিভাবে এটা করবো। তখনই শুরু হয় আমাদের “সেভ সিলেট ট্রেনিং সেন্টারের” যার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৮৪২জন মানুষ ট্রেনিং নিতে সক্ষম হন। উপজেলা লেভেলে-ও ট্রেনিং সেন্টার চালু করা হয়। যাতে গ্রামের মানুষরাও নিজেদেরকে স্কিলড বানাতে সক্ষম হন।

নারীরা সমাজে অবহেলিত। তাই আমরা তাদেরকে এগিয়ে নিতে Sylhet Wonder Women’s প্রজেক্টের মাধ্যমে তাদেরকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। এই কিছুদিনের ভিতর আমাদের পরিবারে সিলেট বিভাগের প্রায় সকল অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষেরা এড হয়ে গেছেন। যতোদিন যাচ্ছে ততোবেশি মানুষ আমাদের পরিবারে যুক্তই হচ্ছেন। বিশ্বের ৩৬টা দেশসহ বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে আমাদের আলাদা টিম রয়েছেন।

সবধরনের স্কিলের মানুষের পাশাপাশি সিলেট বিভাগের বড় বড় গুনিজনরা আমাদের পরিবারের সাথে কাজ করা শুরু করেন। সবাই আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের স্লোগানই হচ্ছে “Together We Are Stronger”।

আলহামদুলিল্লাহ, আমার সবাইকেই একই পরিবারের মাঝে নিয়ে আসি। যার মাধ্যমে গত এক বছরে আমরা ২৭৪৮টি ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রাম করতে সক্ষম হই। ২৬৩টা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। পরিবেশের জন্য ৭৩,৬১৪টি বৃক্ষরোপণ করা হয়। প্রতি মাসে হাজারো মানুষকে ব্লাড ম্যানেজ করে দিচ্ছেন আমাদের Sylhet Blood Center পরিবারের ভলান্টিয়ার ভাইয়েরা।

যতো দিন যাচ্ছে ততোবেশি এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের পরিবার। ইনশাআল্লাহ আমরা আগামী এক বছরে সিলেটকে পজেটিভভাবে বদলে দিবো। তরুণরা এখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আর কথায় আছে, যা স্বপ্ন দেখা যায় তা বাস্তবও হয়ে যায়।

আগামী এক বছরে আমরা সবাইকে স্কিলড ও যোগ্য বানানোর জন্য প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। ব্লাড রিলেটেড সকল সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করছি। বিনামূল্যে শিক্ষা, সকল ধরনের ট্রেনিং, চিকিৎসাসেবাসহ সকল ফান্ডামেন্টাল হিউম্যান রাইটস নিয়ে কাজ করছি আমরা। আল্লাহ সবাইকে সাহায্য করুন। আমিন

#SaveSylhetFamily